Brands

Sort By:
View:
  • বব ডিলান
    গিটার আর একটা অন্ধকার রাস্তা  

    “একজন সঙ্গীতজ্ঞকে, যেখানে ঠিক সে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তার গভীরে প্রবেশ করতে হয়, অবশ্য তা নির্ভর করছে কত দূর সে যেতে পারবে, তার ওপর। সেই গভীরতায় পৌঁছনোর জন্য সে সব কিছু করতে প্রস্তুত থাকে। তার কারণ সঙ্গীত এক তাৎক্ষণিক ব্যাপার, ক্যানভাসে রং চড়ানোর মতো সেটা ঠিক ভেবেচিন্তে করা যায় না। তুমি যখন গাইছ বা বাজাচ্ছ, তখন তোমার আত্মা উড়ে চলে। ফলে সঠিক সুরটা খুঁজে পাওয়ার জন্য তোমাকে তোমার নিজেরই গভীর অন্তঃস্থলে চোখ মেলে তাকাতে হয়।”

    গত শতকের ছয়ের দশকে বব ডিলান-এর আবির্ভাব, তার পর থেকে গত কয়েক দশকে তাঁর গান কখনও শোনেননি, এমন লোক বোধ হয় গোটা বিশ্বেই দুর্লভ। এই বইয়ে তাঁর ছ-টি সাক্ষাৎকারের বয়ান, তাঁর কবিতা, তাঁর নোবেল বক্তৃতার সূত্রে মিলবে ডিলানের এক সার্বিক পরিচয়।

    পরিবর্ধিত বইপত্তর সংস্করণ, ১১৬ পৃষ্ঠা

     160.00
  • সুহৃদকুমার ভৌমিক
    আর্য রহস্য 

    আর্য মানে যে কৃষক, স্থায়ী গৃহস্থ, সে-সম্বন্ধে সন্দেহ নেই। আর ঋগ্বেদের বিরাট অংশ হল চাষবাস বিষয়ক মন্ত্র। তাই য়ুরোপীয় কোন-কোন পণ্ডিত ঠাট্টা করে বলতেন, ঋগ্বেদ হল চাষার গান। এই উক্তিতে আমাদের অনেক পণ্ডিতের মনে কষ্টও হয়েছে। “বেদের বহু স্তোত্রে চাষের কথা আছে। ভূমি সুজলা সুফলা হয়, তাহার জন্য দেবতাদের নিকট অনেক প্রার্থনাও আছে। সুতরাং তাহাদের সিদ্ধান্ত হইল, বৈদিক স্তোত্রকারগণের যে সমাজ তাহা সভ্যতার আদিম বা চাষের স্তরে মাত্র উঠিয়াছিল। তাঁহারা মন্তব্য করিলেন, বৈদিক মন্ত্র সব চাষার গান।” কথাটা কিন্তু অমূলক নয়। কারণ শব্দবিচার করে আমরা জানতে পারব— আর্য শব্দের মৌলিক অর্থই হল কৃষক।

    আজকের দিনে অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী পণ্ডিতই বলছেন, তামাম পৃথিবীতে যে-সমস্ত সংস্কৃত শব্দের অপব্যাখ্যা হয়েছে, তার মধ্যে ‘আর্য’ শব্দটি বোধ হয় সবচেয়ে অভাগা। এর পেছনে কাজ করেছে পাশ্চাত্যের গূঢ় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং সাম্রাজ্যবাদী বাসনা। সংস্কৃতিতত্ত্ব আর ভাষাতত্ত্বের সূত্রে আর্য জাতি সম্পর্কে প্রকৃত সত্যের উদ্‌ঘাটনই এই বইয়ের প্রধান উদ্দেশ্য। সব অর্থেই এ বই বিস্ফোরক বই, প্রচলিত ধ্যানধারণা নাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

    প্রথম বইপত্তর সংস্করণ, ৬৮ পৃষ্ঠা

     100.00
  • আন্দ্রে বাজাঁ
    কাকে বলে সিনেমা?

    চলচ্চিত্রের ভাষা কখন একটি পরিণত রূপ লাভ করেছিল? তখনও পর্যন্ত চলচ্চিত্র শৈলীর মূল বিতর্কগুলো কী ছিল? নাটক বা উপন্যাসের মতো প্রাচীন অভিব্যক্তিগুলোর সঙ্গে চলচ্চিত্র কোন্‌ কানুনগুলোর ভেতর দিয়ে লেনদেন করে? অথবা আরও পিছিয়ে গিয়ে, ছবি কি বিশ্বাসের বাহন, নাকি বাস্তবের সূচক হয়ে উঠতে চায়? এই সংলাপে প্রাচীন ভাস্কর্য, চিত্রকলা আর আলোকচিত্র কী ভাবে নিজের অবস্থানকে সংহত করে—কী ভাবে প্লাস্টিক শিল্পের ইতিহাস পাঠ করব আমরা?
    এই ভাবনাগুলো মূলগত। এদের স্তরবিন্যাস বহুমাত্রিক। দর্শন এবং মনস্তত্ত্ব ইমেজ বিশ্লেষণে এখানে প্রভাবী। এই গ্রন্থের লেখক আন্দ্রে বাজাঁ সম্ভবত প্রথম চলচ্চিত্র-তাত্ত্বিক। গত শতকের চল্লিশের দশক নাগাদ চলচ্চিত্রের ভাষা যে পরিণত স্থিতাবস্থা অর্জন করেছিল তার শৈলীভাণ্ডারের মহাগ্রন্থনা করেছিলেন তিনি। ইমেজ ধারণে, সম্পাদনার পছন্দে এবং শব্দ ও নিঃশব্দের ব্যবহারে কী ভাবে চলচ্চিত্রিক বর্ণনা সম্পন্নতা অর্জন করেছিল তার বিবরণ তিনি উপস্থাপন করেছিলেন।
    ‘কাকে বলে সিনেমা?’ গ্রন্থে তার প্রস্তাব, তর্ক, সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্রতত্ত্বের সূচনা করেছিল আজ থেকে সত্তর বছর আগে। সাত দশকের পরবর্তী যাত্রায় চলচ্চিত্র নানা ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে; এই গ্রন্থ সকল পরিবর্তনের ভেতরে চিন্তাবীজ হিসেবে চলচ্চিত্রভাষার বিকাশকে পুষ্টি দিয়ে চলেছে। তার শক্তি ইতিহাস-চেতনায়, ভবিষ্যৎমুখী প্রেরণায় এবং চলচ্ছবির প্রতি নিখাদ ভালোবাসায়।

    নোকতা-র বই
    প্রথম সংস্করণ, ২৭৮ পৃষ্ঠা

     465.00
  • সুজান সনটাগ
    রিগার্ডিং দ্য পেইন অব আদার্স
    যে-ব্যথা আনজনের

    যুদ্ধের ছবি আসলে কী কাজ করে? কোন ছবিগুলো দেখানো হচ্ছে বারবার? কারা দেখাচ্ছে? কাদের নিষ্ঠুরতা দেখানোই হচ্ছে না? কেমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করা হচ্ছে? যুদ্ধের নিবারণ কি আদৌ সম্ভব? অন্যের দুর্দশার ছবি দেখতে-দেখতে কি অসাড় হয়ে যাই আমরা? অভ্যস্ত হয়ে যাই? কারা এই ‘অন্য’রা? ‘আমরা’ই বা কারা? যুদ্ধে যাঁরা গিয়েছেন, যাঁরা আহত হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, মারা গিয়েছেন, তাঁদের কী-ই বা বলার থাকতে পারে আমাদের? প্রশ্ন তুলছেন সুজান সনটাগ।

    নোকতা-র বই
    প্রথম সংস্করণ, ১৬৮ পৃষ্ঠা

     285.00
  • হোর্হে লুইস বোর্হেস
    কবিতার কারখানা

    আজ থেকে প্রায় অর্ধ-শতক আগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রোতাদের অভিভূত করেছিল আর্হেন্তিনীয় সাহিত্যিক হোর্হে লুইস বোর্হেস-এর অভিভাষণ যা পরবর্তী কালে হারিয়ে যায়। সেই হারিয়ে যাওয়া মহামূল্য অভিভাষণটিই পরে ফিরে আসে অডিও টেপ থেকে লিখিত রূপে। এ যেন সাহিত্যের সঙ্গে, ইংরেজি ভাষার সঙ্গে বোর্হেসের সারা জীবনের প্রেমের গল্প। অকপট, সুরেলা, বুদ্ধিদীপ্ত ও রসবোধে পরিপূর্ণ এবং একই সঙ্গে অসাধারণ পান্ডিত্যপূর্ণ এক কণ্ঠস্বরকে আমরা এই বইতে পাই যা বিশ শতকের সব চাইতে চমকপ্রদ সাহিত্যিক কণ্ঠস্বরগুলোর একটা।

    নোকতা-র বই
    প্রথম সংস্করণ, ১৩৬ পৃষ্ঠা

     225.00
  • আপনাকে বলছি স্যার
    বারবিয়ানা স্কুল থেকে

    ভূমিকা ও ভাষান্তর : সলিল বিশ্বাস 

    ইতালির টাসকানি প্রদেশে মুজেল্লো অঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় গোটা-কুড়ি খামার নিয়ে গঠিত একটি জনবসতি— বারবিয়ানা। জায়গাটা রুক্ষ অথচ সুন্দর। ছোট্ট একটি গির্জা আছে এখানে। ১৯৫৪ সালে পাদ্রি দন লোরেনজো মিলানি আসেন গির্জাটির ভারপ্রাপ্ত হয়ে। বারবিয়ানাতে এসে লোরেনজো মিলানি দেখলেন এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জগৎ বলতে প্রায় কিছুই নেই। বেশির ভাগ ছেলেমেয়েই হয় পরীক্ষায় ফেল করে স্কুল ছেড়ে দিয়েছে, অথবা যেভাবে স্কুলে শিক্ষাদান করা হয় সে বিষয়ে তাদের তিক্ততার শেষ নেই। মিলানি জড়ো করলেন দশটি ছেলেকে— এগারো থেকে তেরো বছর তাদের বয়স। তাদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যাবলি নিয়ে অনুশীলন আর সে-সব সমস্যার ভিতরে ঢোকার চেষ্টায় কাটত অনেকটা সময়। এই কাজের মধ্য দিয়ে এক বছর সময় ধরে বিশেষ একটা পরিকল্পনার রূপায়ণ হিসাবে এই স্কুলের আট জন ছাত্র ‘আপনাকে বলছি স্যার’ (Letter to a Teacher) বইটি লিখেছিল।

    দরিদ্র, গ্রাম্য স্কুলের ছেলেদের লেখা এই বই ‘আপনাকে বলছি স্যার’ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মানুষের জীবনে আশ্চর্য পরিবর্তন এনে দিয়েছে। প্রায় সব দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিত্ততোষণ আর মধ্যবিত্ত মানসিকতা সৃষ্টির প্রক্রিয়ার উপর এই বইয়ের সরাসরি আক্রমণই দেশে-দেশে এই বইয়ের জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ। এই বইয়ের ‘আমি’ আটজন তরুণ লেখকের সম্মিলিত ব্যক্তিত্ব, আর ‘আপনি’ হলেন তাদের পরিচিত সকল শিক্ষক।

     200.00
  • সুব্রতকুমার মুখোপাধ্যায়।। সুশীলকুমার বর্মন
    ঝাড়গ্রাম জেলা প্রত্ন পরিক্রমা

    পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পশ্চিমাংশে অবস্থিত ঝাড়গ্রাম মহকুমাকে ঝাড়গ্রাম জেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল। ছোটনাগপুর মালভূমির অবক্ষয়িত প্রান্তভাগ এই অঞ্চল ছিল প্রাগৈতিহাসিক মানবের  চারণভূমি। মানবসভ্যতার আদি কাল থেকে আধুনিক কালে বিবর্তনের চিহ্নসমূহ সুস্পষ্ট ভাবে অঙ্কিত হয়ে রয়েছে  ঝাড়গ্রাম জেলার প্রতিটি ধূলিকণায়। যুগে-যুগে বহু ধর্মগুরু ধর্মপ্রচারে আবির্ভূত হয়েছেন জঙ্গলাকীর্ণ এই রাঢ়ভূমিতে। বহু সহস্র বছরের প্রাচীন আদিবাসী ধর্মচর্চার সমান্তরালে কখনও জৈন, কখনও বৌদ্ধ, কখনও আবার বৈষ্ণব ধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটেছে কঙ্করময় এই লোহিত-মৃত্তিকায়। কিন্তু আদিবাসী সংস্কৃতি ব্যতীত অন্য কোন সংস্কৃতিই এখানে স্থায়ী আসন বিস্তার করতে পারেনি। বিভিন্ন ধর্মচর্চার নিদর্শনগুলি কিন্তু থেকে গেছে ঝাড়গ্রাম জেলার আনাচকানাচে। এই জেলার পথে-ঘাটে-প্রান্তরে, বিশেষত কাঁসাই, তারাফেনি, ভৈরববাঁকি, সুবর্ণরেখা, ডুলুং, পলপলার অববাহিকায় ছড়িয়ে রয়েছে হাজার-হাজার প্রত্ন-নিদর্শন যার অধিকাংশই এ পর্যন্ত অনালোচিত বা স্বল্পালোচিত। ঝাড়গ্রাম জেলার পাহাড়-মালভূমি, গুহাকন্দর, বনজঙ্গলে নিবিড় অনুসন্ধান ও সমীক্ষায় প্রাপ্ত মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশ, জমিদার-রাজাদের ইতিবৃত্ত ও ধর্ম-সংস্কৃতি বিষয়ক পুরাতাত্ত্বিক বিবরণ ও বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে ‘ঝাড়গ্রাম জেলা প্রত্ন-পরিক্রমা’ বইটিতে। বইটি শুধু প্রত্ন-পরিক্রমা নয়, ঝাড়গ্রাম জেলা ও পার্শ্বস্থ এলাকার আঞ্চলিক ইতিহাস পরিক্রমার চাহিদাও অনেকাংশে পূরণ করবে।

     300.00
  • থিয়েটারের কথা

    ইবসেন থেকে এমিল জোলা হয়ে অগাস্ট স্ট্রিন্ডবার্গ, বার্নার্ড শ ও জন গলসওয়ার্দি, তারপর ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা, জঁ-পল সার্ত্র, ফ্রিডরিক ড্যুরেনমাট হয়ে বের্টোল্ট ব্রেখট— স্বনামধন্য ন-জন নাট্যকার ও নাট্য-পরিচালকের থিয়েটার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লেখা এক গুচ্ছ নিবন্ধের সংকলন। এই সামান্য কয়েকটি লেখাতেই উনিশ শতকের শেষ থেকে বিশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত নাটক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নানান তত্ত্ব ও তর্ক জীবন্ত হয়ে উঠে এসেছে।

     40.00
  • একটি পোস্টার ওয়ার্কশপ প্রযোজনা
    পোস্টার ২০২০

    পোস্টারকে শিল্পকলার ইতিহাস পাত্তা দেয় না। তাতে কী? সে মাঠে-ঘাটে-দেওয়ালে-রাস্তাতেই খুশি। মিছিলে-শ্লোগানে-ঘোষণায়-প্রতিবাদে শামিল হয়ে সে দিব্যি আনন্দে আছে। এমনি আনন্দে থাকা একদল মানুষ, একদল শিল্পী-মানুষ রং-তুলি-কাগজ নিয়ে মাঝে-মাঝে জড়ো হন পোস্টার আঁকতে। নাকি পোস্টার লিখতে? এ নিয়ে তর্ক ওঠে চিনি-ছাড়া কালো চায়ের কাপে। কোন-কোন দিন কথা ওঠে— ‘এইবার আমাদের একটা নাম দেওয়া যাক।’ কিন্তু শেষমেশ এই ‘পোস্টার ওয়ার্কশপ’ নামটাই থেকে যায়। পোস্টার নিয়ে আলোচনার বিরতিতে কথা ওঠে একদিন একসাথে বসে পোস্টার করার। তারপর অনেক বার নিজেরা বসে পোস্টার করা ছাড়াও আমরা পোস্টার নিয়ে গেছি উত্তরপাড়া, কাঁচরাপাড়ায়। পোস্টার টাঙানো হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। বইমেলায় বন্ধুদের দোকানে থেকেছে পোস্টার আর আঁকার সরঞ্জাম। আমরা পোস্টার এঁকেছি গড়িয়াহাট ব্রিজের তলায়। সঙ্গী হয়েছি পার্ক সার্কাসের এনআরসি-বিরোধী আন্দোলনে— সেখানে মহা-উৎসাহে আন্দোলনকারীরা আমাদের সঙ্গে এঁকেছেন— মুহূর্তে সেই পোস্টার বদলে গেছে শ্লোগানে। একাধিক বার পোস্টার দেখানোর আয়োজন হয়েছে— নানা মানুষ সেখানে এসেছেন, দেখেছেন, মতামত দিয়েছেন।

    এই সব অগুনতি পোস্টার থেকে কিছু পোস্টার নিয়ে এই বই— যেটুকুর ছবি তোলা ছিল। কিছু পোস্টার রোদে পুড়ে জলে ভিজে হাতে-হাতে ছিঁড়ে গেছে— তাদের ছবি নেই। কিন্তু তাদের পোস্টার-জন্ম সার্থক হয়েছে।

     50.00
  • শান্তনু গঙ্গোপাধ্যায়
    পিয়ের-অগুস্ত রেনোয়া
    এক সৌন্দর্যসাধকের জীবন ও শিল্প

    শিল্প-আন্দোলনের ইতিহাসে ইমপ্রেশনিজম এক আশ্চর্য ঘটনা। কয়েকজন তরুণের শিল্পশৈলী ব্যঙ্গার্থে এই নাম কুড়িয়েও যে শিল্পজগতে চিরস্থায়ী মর্যাদা লাভ করে তা-ই শুধু নয়, রেনেসাঁস পর্বের পর এই প্রথম আধুনিক কালে দেখা যায় সচেতন এক রীতিকেন্দ্রিক কয়েকজন মহাপ্রতিভার বিকাশ ও বিবর্তন। ইমপ্রেশনিস্টদের প্রত্যেকেই তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত সৌন্দর্যবাদী সৃষ্টি দ্বারা দর্শকচিত্ত জয় করেন। তাঁদের সকলেরই বিশিষ্টতা অতুলনীয়। কিন্তু তার মধ্যেও রেনোয়া-র স্থান বিশিষ্ট। তাঁর চিত্রকলায় আগাগোড়া ধ্বনিত এক আনন্দগান, তাঁর শিল্পভুবনে চলে এক অবিরাম আনন্দোৎসব। মনে রাখতে হবে যে, ইমপ্রেশনিস্টরা যখন সক্রিয়, তখন ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস মলিন ও বিক্ষুব্ধ। যাকে ‘রূঢ় বাস্তব’ বলি তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রেনোয়া-র কম ছিল না : ফ্র্যাংকো-প্রুশীয় মহাযুদ্ধ ও পারি কমিউন-এর সঙ্গে তিনি একজীবনে দেখেন সমাজতন্ত্রী বিপ্লব ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধও। তবু এক বিপন্ন ও ক্লেদাক্ত পৃথিবীতে বসে তিনি রচনা করেন এক অমলিন সৌন্দর্যজগৎ। তাঁর চিত্রকলায় যে-‘সেলিব্রেশন অফ লাইফ’, তার আড়ালে সাধনা অকৃত্রিম বলেই তার আবেদন আজও অটুট।

     70.00
  • এদুয়ার্দো গালেয়োনো
    আয়না : আমাদের প্রায় সব্বার গপ্প

    কেন লিখলেন এমন একটা বই? এর উত্তরে গালেয়ানো জানিয়েছেন, “আমি আমার বইগুলো, বিশেষ করে এই শেষেরটা, ‘মিররস’, লিখেছি এটা দেখানোর জন্য যে বিশ্বের কোন জায়গাই অন্য কোন জায়গার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, কোন মানুষই অন্য কোন মানুষের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দাবি করে না। এ বিশ্বকে যারা নিয়ন্ত্রণ করে তারা আমাদের যৌথ স্মৃতিকে ছিন্ন করেছে, এবং প্রতিদিন তারা আমাদের এখনকার বাস্তবতাকেও ছিন্ন করে চলেছে। প্রভাবশালী দেশগুলোকে শিখতে হবে যে কী ভাবে ‘নেতৃত্ব’ শব্দটা ‘বন্ধুত্ব’ দিয়ে বদলে ফেলা যায়।”

    লেখক এই বইয়ে যা বলতে চেয়েছেন, যা করতে চেয়েছেন, তার ফলে নিছক গল্প-বইয়ের বদলে এ বই হয়ে উঠেছে বিশ্ব-ইতিহাসের এক বিকল্প পাঠ। এর প্রতিটি গল্প নিয়েই গুরুগম্ভীর, রীতিমতো গবেষণামূলক, দীর্ঘ প্রবন্ধ লেখা যায়, গালেয়ানো হাঁটতে পারতেন সে পথে, যদিও সে প্রবন্ধ কেতাবি মহলের বাইরে কেউ পড়ত না, আর পড়লেও মনে রাখত না। বদলে, হয়তো তিনি পাঠককেই প্ররোচিত করেছেন গবেষণার পথে, এর প্রতিটি গল্প মনোযোগী পাঠক হয়তো বিভিন্ন সূত্রে যাচাই করে নিতে চাইবেন, যদি চান, তাহলে সেখানেই লেখকের সার্থকতা।

    প্রায় ছ-শো গল্প-সম্বলিত মূল বইয়ের এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রথম ভাগ। সম্পূর্ণ বইটি মোট তিন ভাগে প্রকাশিতব্য। এই ভাগে আরও রয়েছে লেখকের নানা সময়ে দেওয়া তিনটি সাক্ষাৎকারের বয়ান। বাংলায় রূপান্তর : সন্দীপন ভট্টাচার্য।

     385.00
  • বের্টোল্ট ব্রেখ্‌ট
    নির্বাসিতের জার্নাল

    এই বইয়ে রয়েছে কবি ও নাট্যকার বের্টোল্ট ব্রেখ্‌ট-এর কয়েক বছরের জার্নাল এন্ট্রি, ১৯৩৪ থেকে ১৯৪০ পর্যন্ত এর ব্যাপ্তি, তার মধ্যে আবার শেষ তিন বছরের খতিয়ানই বেশি। ঘটনাচক্রে ব্রেখ্‌টের নিজের জীবনের দিক থেকে যেমন, তেমনই মানব-ইতিহাসের দিক থেকেও এই সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে, হিটলার ক্ষমতায় আসার (১৯৩৩) পর-পরই দেশ ছাড়তে বাধ্য হন ব্রেখট, ফেরেন প্রায় বছর-পনেরো পর। এই জার্নালের পুরোটাই তাই দেশের বাইরে, নির্বাসনে লেখা। কয়েক বছরের দিনলিপি আর সংশ্লিষ্ট একটি কবিতা নিয়ে এই বই : নির্বাসিতের জার্নাল। নতুন করে সাজিয়ে প্রকাশিত হল এই বইয়ের ই-ভাষ্য।

     40.00
  • দীপংকর লাহিড়ী
    শাশ্বত : মহাভারতের পুনর্পাঠ

    মহাভারত এক বহুমাত্রিক মহাকাব্য। পাশ্চাত্যের গবেষকদের মতে ‘সুপার এপিক’, আমরা যার বাংলা করতে পারি অতিমহাকাব্য। তাঁদের দর্শানো কারণ মহাভারতের ব্যাপ্তি, আয়তনে যা ইয়োরোপীয় দুই মহাকাব্যের মিলিত আয়তনের আট গুণ। কিন্তু মহাভারতের কালের ব্যাপ্তি সম্বন্ধে গবেষকরা বিশেষ কিছু ভাবেননি। মহাভারত মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশেরও এক বাচিক দলিল। ভূবিদ্যার একটি শাখার অনুসন্ধানের পদ্ধতি অনুসরণ করে বর্তমান গ্রন্থ তার কালক্রমিক মাত্রা উন্মোচনের গবেষণামূলক প্রচেষ্টা। তাই এখানে এসেছে কাল-ক্রমিক বিবর্তনের ধারায় গণ থেকে জন, মাতৃতন্ত্র থেকে পিতৃতন্ত্র, সভ্যতার স্তরক্রম, রাজনীতি থেকে অর্থশাস্ত্র, সমরনীতি, সমাজের উন্নতি ও অবক্ষয়, যার আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে ইয়োরোপ, মিশর, মধ্য প্রাচ্য ও ভারতের নথিবদ্ধ ইতিহাসের ভিত্তিতে। বহুদর্শী লেখকের এ এমন এক বই, যা বহু দিন ধরে পাঠকের নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকবে।

    ২৯৫ পৃষ্ঠা, ৯৫৪ কেবি

     100.00
  • মলয় রায়
    বাঙালির বেশবাস : বিবর্তনের রূপরেখা

    বাংলার প্রাচীন ও মধ্য যুগের পুঁথি, মন্দির-সংলগ্ন ফলক আর ভাস্কর্য, লৌকিক পট, কাঠখোদাই আর তেলরঙের ছবি, আধুনিক আলোকচিত্র এবং বিভিন্ন বই আর সাময়িকপত্রে বাঙালির বেশবাস-সংক্রান্ত অসম্বদ্ধ ভাবে ছড়িয়ে থাকা অজস্র তথ্যের ভেতর থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংকলন, নির্বাচন, বিশ্লেষণ আর কালানুক্রমিক ভাবে তা বিন্যস্ত করে এবং সাধ্যমতো তার চিত্রিত নথি পেশ করে বাঙালির বেশবাসে বিবর্তনের সুদীর্ঘ ধারাকে পূর্ণাঙ্গ এই গ্রন্থে ধরেছেন লেখক। বাংলা বা অন্য কোন ভাষায় বাঙালির বেশবাস সম্পর্কে এমন আলোচনার যথেষ্ট অভাব রয়েছে, আর সে অভাব এই বইতে নিঃসন্দেহে অনেকটা পূরণ করেছেন তিনি।

    ২৩৫ পৃষ্ঠা, ৩ এমবি

     100.00
  • মীরা মুখোপাধ্যায়
    প্রবাহিত জীবনের ভাস্কর্য

    বিশ শতকে এ দেশের ভাস্করদের মধ্যে সর্ব অর্থেই অগ্রগণ্যা ছিলেন মীরা মুখোপাধ্যায়। বিষয়-ভাবনায় এবং প্রয়োগ-কৌশলে তাঁর কাজ একদিকে যেমন খাঁটি দেশজ, অন্য দিকে তেমনই তা স্পর্শ করে আছে সর্বজাতিক ঐতিহ্য। শিল্পসৃষ্টির পাশাপাশি তিনি নানা সময়ে তাঁর জীবন ও শিল্পকলা নিয়ে লিখেছেন, সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, এমনকী ডায়েরির পাতায় বিশদ করেছেন তাঁর শিল্প ও জীবনদর্শন। তার মধ্যে থেকে বাছাই করে কিছু লেখা, সাক্ষাৎকার ও দিনপঞ্জির বয়ান এই বইয়ে সংকলিত হয়েছে।

    ৮৬ পৃষ্ঠা, ১৫ এমবি

     80.00
  • অসীম রেজ
    চিত্রকর ফ্রিদা কাহলো : এক অনন্য নারী

    স্বদেশ-ভাবনা এবং স্বাজাত্যাভিমান ছিল মেক্সিকোর শিল্পী ফ্রিদা কাহলো-র জীবন-আদর্শের মূল কথা। তাঁর শিল্পভাবনার কেন্দ্রে ছিল স্বাধীন ব্যক্তিসত্তার প্রকাশ। তিনি সমাজ ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা যেমন স্বীকার করেছিলেন, তেমনই নারীসত্তার উন্মোচনে পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনে ব্যক্তিগত জীবন বাজি রেখেছিলেন। তাঁর শিল্পকলায় জীবন-সংগ্রাম ও কঠোর বাস্তবতা, ফ্যান্টাসি ও কল্পনা এবং আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন ঘটেছিল। একদিকে ইউরোপীয় আধুনিকতা, অন্য দিকে মেক্সিকোর সনাতন জনপ্রিয় লোকশিল্পের ধারা তাঁর শিল্পকর্মের প্রাণবিন্দু হয়ে উঠেছিল।

    ফ্রিদা-র জীবন ও শিল্পকর্মের সামগ্রিক পরিচয় নিয়ে এ বাংলার প্রথম বই।

    ৭২ পৃষ্ঠা, ২০ এমবি

     60.00