গোলমেলে এক মেয়ে, আগুনে বন্দুক. . . : অরুন্ধতী রায়

গোলমেলে এক মেয়ে, আগুনে বন্দুক. . . আর রাজনীতির বাঁধি সড়কের কিস্‌সা

দিল্লিতে ‘ব্যান্ডিট কুইন’ প্রথম দেখানোর সময়ে শেখর কপুর ছবিটির পরিচয় দেন এই ভাবে— ‘সত্য এবং নান্দনিকতা— এ দুয়ের মধ্যে কোন একটাকে বেছে নেওয়ার প্রশ্নে শেষ পযন্ত আমি বেছে নিয়েছি সত্যকেই। কেননা, সত্যই শুদ্ধতর।’

বার বার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে, আলোচনায়, মায় ছবি দেখানোর প্রাক্‌মুহূর্তে পর্দায় আমাদের আশ্বস্ত করা হয়— ‘এ এক সত্য কাহিনী।’ আহা, এ যদি ‘সত্য’ কাহিনী না-হত, আমাদের চলচ্চিত্র-কারখানায় ফেনিয়ে-তোলা আর-পাঁচটা চালু ধর্ষণ ঔর প্রতিশোধ কিস্‌সার খিচুড়ি থেকে এ ছবিকে আলাদা করা যেত কী ভাবে? কিংবা, সেই পুরনো অভিযোগ, এতে সনাতন ভারতবর্ষ সঠিক ভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না— তা থেকেই বা বাঁচানো যেত কী উপায়ে?

কোন ভাবেই যেত না।

তাই ঐ ‘সত্য’ই একে বাঁচাতে পারে। বার বার। ঐ ‘সত্য’ই একেবারে সুপারম্যানের কায়দায় হাতে সুইস ছুরি নিয়ে ছোঁ মেরে রুচিহীন অবমাননার মুখ থেকে ছবিটিকে ছিনিয়ে আনতে পারে!

আর এই ‘সত্য’ই তো কেড়ে নিয়েছে যাবতীয় সংবাদপত্রের শিরোনাম, (ছবিটির বিরুদ্ধে) সমস্ত যুক্তিতর্ক ভোঁতা হয়ে গেছে, তলিয়ে গেছে সব সমালোচনাই।

এখন, আপনার যদি ছবিটিকে বিস্বাদ বলে মনে হয়, তা হলে আপনাকে বলা হবে— আসলে ‘সত্যে’র প্রকৃত চেহারা তো এ রকমই— বিস্বাদ। কৌশলে কার্যোদ্ধার? আহা, জীবন মানেই তো তা-ই।

এগোন। নিজেই চেষ্টা করে দেখুন এ বার। চেষ্টা করুন. . . বড় অপব্যবহার! অথবা. . . মোটা দাগের। মোটা দাগেই চেষ্টা করুন।

অনেকটা ট্রাকের পেছনে লেখা বাণীর মতো—

ঈশ্বর মানে ভালোবাসা।
জীবন অতি কঠোর।
সত্য ভারি বিশুদ্ধ।
—হর্ন বাজাও।

অতএব, এ ছবি সত্যি, না মিথ্যে— তা আর এখন প্রাসঙ্গিক নয়। আসল কথা হল, ইতিমধ্যেই যদি হয়ে গিয়ে না-থাকে, তা হলেও অচিরে এ জিনিশ সত্যের পরাকাষ্ঠা হয়ে উঠবে।

ফুলন দেবী নামের ঐ নারী আজ তার গুরুত্ব হারিয়েছে। (অবশ্য সে এখনও বেঁচে আছে, চোখ চুল কান ও অন্যান্য প্রত্যঙ্গ-সমেতই বেঁচে আছে, তার ওপর ইদানীং তার আবার একটা ঠিকানাও জুটেছে)। (এ লেখা যে-সময়ের, অগস্ট-সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪— ফুলন তখনও বেঁচে ছিলেন)। কিন্তু সে অসুস্থ, লেজেন্ডাইটিস বা কিংবদন্তি রোগে আক্রান্ত। এখন সে যেন নিজেই নিজের ভিন্ন কোন ভাষ্য। ফুলনের নানান সব ভাষ্য এখন নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ব্যস্ত, প্রত্যেকেই নজর কাড়তে চায়। বিশেষত শেখর কপুরের এই ‘সত্য’ ভাষ্য, যা ইদানীং আমাদের প্রায় মেরে-ধরে, জোর করে গেলানো হচ্ছে।

‘এ গল্প এমন যে এ যদি নেহাত কাল্পনিক হত, তা হলে তেমন কৃতিত্বের কিছু ছিল না। কিন্তু এ হল ভারতীয় এক বালিকাবধূ, ফুলন দেবীর সত্য কাহিনী।’ গার্ডিয়ান-এ লিখেছেন ডেরেক ম্যালকম।

তাই নাকি? সত্য কাহিনী? কী ভাবে জানা গেল? কে বলল যে এ কাহিনী সত্যি?

শেখরবাবুর বক্তব্য হল, তিনি ছবিটি করেছেন মালা সেন-এর ‘ইন্ডিয়া’স ব্যান্ডিট কুইন : দ্য ট্রু স্টোরি অফ ফুলন দেবী’ অবলম্বনে। অনেক সাক্ষাৎকার নিয়ে, অনেক নিউজ রিপোর্ট পড়ে, ফুলনের সঙ্গে কথা বলে, তার ওপর জেল থেকে পাচার করা ফুলনের নিজের লিখিত বয়ানকে ভিত্তি করে এ বইয়ে ফুলনের জীবনকে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

কখনও একই ঘটনার বিভিন্ন ভাষ্য— যে-সমস্ত ভাষ্য হয়তো একে অন্যের সম্পূর্ণ বিরোধী— যেমন, ফুলনের নিজের ভাষ্য বা এক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ— সব কিছু একযোগে এ বইতে পাঠকের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তাতে যা ঘটেছে, তা হল জটিল ও বুদ্ধিদীপ্ত এক মানবিক দলিল রচিত হয়েছে। প্রচুর দ্ব্যর্থকতা, অনেক সহমর্মিতা, অনেক কৌতূহল ফুলন দেবী নামের ঐ নারীকে নিয়ে, যে, সে আসলে কে।

শেখর কপুরের অবশ্য কোন কৌতূহল ছিল না।

তিনি সরাসরি স্বীকার করেছেন যে ফুলনের সঙ্গে দেখা করার কোন প্রয়োজন তিনি বোধ করেননি। তাঁর প্রযোজক, ববি বেদি-ও, তাঁর এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন— ‘প্রয়োজন মনে করলে শেখর নিশ্চয়ই ওঁর সঙ্গে দেখা করত।’ (সানডে অবজার্ভার, অগস্ট ২০, ১৯৯৪)।

ফুলন দেবী আসলে কে, তাতে শেখরের কিছু যায়-আসে না। কেমন মানুষ ঐ ফুলন? আরে, মহিলা তো, না কী? ওকে ধর্ষণ করা হয়েছিল, হয়নি কি? তো, তার ফলে ওর অবস্থা কী হল?

এক ধর্ষিতা রমণী! ও তো একজনকে দেখলেই সব্বাইকে দেখা হয়ে যায়।

শেখর কাজের লোক।

তা হলে আর মরতে ওর সঙ্গে দেখা করার দরকার কী?

আচ্ছা, শেখর কি এক বারও থমকে ভাবেননি যে নিশ্চয়ই এই মহিলার মধ্যে অ-সাধারণ কিছু আছে? যে, ছোট জাতের কোন গ্রাম্য মহিলা, একদা যে ধর্ষিত হয়েছিল, এই যদি তার জীবনের স্বাভাবিক ছক হয়— তা হলে তো আমাদের দেশ মেয়ে-ডাকাতে ভরে যায়।

দুনিয়ার কোথাও যদি এমন কোন জীবনীকার থাকেন, যিনি তার জীবিত চরিত্রের সঙ্গে একবারও দেখা করার সৌজন্য বোধ করেননি— তিনি কি উঠে দাঁড়াবেন দয়া করে? নামটা একটু বলবেন, ভাই? আচ্ছা, এর ফলে আপনি (এবং আপনার কাজ) কি লম্বা লাফ দিয়ে একেবারে শিল্পের মগডালে গিয়ে উঠেছে?

তাঁর ছবিটি মালা সেনের বইকে অবলম্বন করে নির্মিত— এ কথায় কী বোঝাতে চেয়েছেন শেখর? কোন্‌ ঘটনার কোন্‌ ভাষ্যটি ‘সত্যি’, কী করে জানলেন তিনি? কীসের ভিত্তিতে তিনি পরস্পরবিরোধী নানান ভাষ্যের মধ্যে কোন একটিকে বেছে নিলেন?

এক ধরনের গেঁয়ো ঔদ্ধত্য কাজ করেছে এখানে। বা, বলা যায় নির্বোধের সাহস। যা সে জানে না, তা নিয়েও তার বিন্দুমাত্র ভয়ডর নেই।

শেখর বস্তুত এ বইয়ের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছেন, যেটুকু তাঁর কাজে লাগবে, তা নিয়েছেন। বাদবাকি স্রেফ অবজ্ঞা করেছেন, এমনকী দরকারমতো তা বদলেও দিয়েছেন।

আমি অবশ্য আদৌ এ কথা বলছি না যে বইয়ের প্রত্যেক ঘটনাকে, তা বলে ছবির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বলছি যে, তাঁর এই নির্বাচনের দিকে যদি একটু কঠোর দৃষ্টিতে তাকানো যায়— যা তিনি বেছে নিয়েছেন, যা বাদ দিয়েছেন, এবং যা তিনি নির্মম ভাবে বদলে দিয়েছেন, সে সব বিচার করে দেখা যায়— তা হলে সত্যিই এক ভয়াবহ ছবি উঠে আসে।

ফুলন দেবীকে (এই চলচ্চিত্রভাষ্যে) বেশ শক্ত চামড়ার বাঁধনে বাঁধা হয়েছে। যখনই সে নিগ্রহ ও নিষ্ঠুরতার মধ্যবর্তী ছায়াচ্ছন্ন জলাভূমির দিকে ছুটে পালানোর চেষ্টা করেছে, অমনি তার লাগাম টেনে ধরা হয়েছে, বেড়ি পরানো হয়েছে পায়ে।

ছবিটির ভাবাবেগের ছকে আর-একটি অনিন্দ্য গুরুত্বের ব্যাপার হল যে এখানে আপনি ফুলনকে কখনও, একবারের জন্যও করুণা না-করে থাকতে পারবেন না। ক্ষমতার ভারসাম্যকে সে কখনও ভয় দেখায় না।

ফুলন-কাহিনীর গোটা বিষয়টার মধ্যে বোধ হয় এটাই সবচেয়ে গর্হিত যে ‘তুমি আমাকে ধর্ষণ করেছ/ আমি তোমাকে খুন করব’— এই সমীকরণকে তা অতিক্রম করে চলে যায়। আসলে কথাটা এই যে, মেয়েটা একটু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। নিষ্ঠুরতার শিকার যে, সে নিজেই নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছিল।

শেখরের ছবি এ সব চায় না। কারণ ঐ ভাবাবেগের ছকে এর অবদান কী? এ কথা বুঝতে হলে আপনাকে ধর্ষণ জিনিশটাকে তার সঠিক পরিপ্রেক্ষিতে স্থাপন করার চেষ্টা করতে হবে। ভালো কোন মেয়েকে (উদ্ধত, একগুঁয়ে, হয়তো একটু মুখ-খারাপ তার, কিন্তু মূলত সে সচ্চরিত্র, যৌন অর্থে নীতিনিষ্ঠ) ধর্ষণ করা এক রকম। আর খারাপ/ চরিত্রহীনা বলে প্রচারিত কোন মেয়েকে ধর্ষণ করা আর-এক রকম : তত খারাপ নয়। এর জন্য হয়তো আপনি ততটা দুঃখবোধও করবেন না। হয়তো একেবারেই করবেন না।

যে-কোন পুলিশের লোক এ কথা বলে দেবে আপনাকে।

যখনই পুলিশ-কাস্টডিতে কোন মহিলাকে ধর্ষণের জন্য তাদের অভিযুক্ত করা হয়, তখনই তারা মাঠে নেমে পড়ে। ধর্ষণ করা হয়নি— এ কথা প্রমাণ করার জন্য নয়। বরং এ কথা প্রমাণ করার জন্য যে, মহিলার চরিত্র ভালো নয়। ও তো নষ্ট মেয়েছেলে! বেশ্যা! বিয়ে ভেঙে গেছে ওর। বা, পাালিয়ে এসেছে কার-না-কার সঙ্গে, মানে সে-ই তো এ কাজ করতে তাদের প্ররোচিত করেছে।

পার্থক্যটা একই।

‘ব্যান্ডিট কুইন’ ছবিটিও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কিছু বলে না। বলে, ভালো (মানে, পড়ুন সচ্চরিত্র) মেয়েদেরকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে। (বাদবাকি আমরা যে তত ‘ভালো’ নই, তা নিয়ে কিছু মনে করার নেই।)

ছবিটি প্রথম থেকে শেষ পযন্ত প্রায় ত্রস্ত মুরগির মতো স্বয়ং ফুলনের থেকে ফুলন দেবীকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আমাদের, মানে দর্শকদের, বিশ্বস্ত গরুর পালের মতো খেদিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তর্ক করা যাবে না (কারণ সত্য যে শুদ্ধতর। আর তা নিয়ে জলঘোলা করার কোন মানেই হয় না)।

প্রত্যেক বার, যখনই পরিচালক দেখেছেন তাঁর সরল, নীতিধর্মী উপাখ্যানের পূর্ব-পরিকল্পিত অঙ্ক কোন তথ্য বা ঘটনা গুলিয়ে দিতে পারে, তখনই তাকে বিকৃত করা হয়েছে এবং জোর করে ঐ সাজানো ছকে পুরে দেওয়া হয়েছে।

এ সব তিনি খুব বুঝে-শুনে করেছেন, সে অভিযোগ অবশ্য আমি করছি না।

আমি বিশ্বাস করি, তাঁর নিজের মধ্যবিত্ত নারকীয়তায় বিকৃত এক মনশ্চিত্র থেকেই এর উৎপত্তি, যা এর পর তিনি অগ্নিনির্বাপকদের হোস-পাইপের মতো দর্শকদের দিকে ঘুরিয়ে ধরেছেন।

শেখর কপুরের ছবি অনুযায়ী, প্রথমত ফুলন কী করে দস্যু বা ডাকাতে পরিণত হল থেকে শুরু করে তার জীবনের প্রতিটি প্রধান ঘটনা— প্রত্যেক সিদ্ধান্ত, প্রতিটি মোড়-ফেরা ঐ ধর্ষিত হওয়ার সঙ্গে, বা ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।

শেখর ধর্ষণ-পুরোহিতের মতো ফুলনের জীবন নিয়ে স্রেফ ছিনিমিনি খেলেছেন।

এ বিষয়ে তাঁর ভয়াবহ অনুরাগ বুঝতে কোন অসুবিধেই হয় না। এ হল এক ধরনের ওলটানো পুরুষ-আত্মসর্বস্বতার নামান্তর।

ধর্ষণই এখানে প্রধান খাদ্য। জাতপাতের বিষয়টা ঝোলের মতো, যার মধ্যে তা সাঁতরে বেড়াচ্ছে।

পর্দায় নামপত্র ফুটে ওঠার আগেই ছবিটা শুরু হয় যে-দৃশ্য দিয়ে, সেখানে শিশু-ফুলনের বিয়ে হচ্ছে বয়সে অনেক বড় একটা লোকের সঙ্গে।

লোকটা তাকে তার গাঁয়ে নিয়ে যায় ও ধর্ষণ করে। ঘটনাচক্রে, ফুলন সেখান থেকে পালায়।

পরের দৃশ্যে তরুণী-ফুলনকে দেখা যায় গাঁইয়া ঠাকুরদের হাতে যৌন নিগ্রহের শিকার হতে। প্রতিবাদ করলে তাকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়, সোজা গ্রাম থেকেই তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফিরে এলে তাকে পোরা হয় গারদে। সেখানে আবার ধর্ষণ, রীতিমতো মারধর করে অবশেষে তাকে জামিনে ছাড়া হয়। তার কিছু পরে আবার তাকে এক দল ডাকাত ধরে নিয়ে যায়। ক্রমে সে ঘোর অপরাধীতে পরিণত হয়, জামিন টপকায়। এর পর পাহাড়-জঙ্গলের জীবন মেনে নেওয়া ছাড়া তার আর কোন উপায় থাকে না।

‘ত্বরিত, ঘন, নাটকীয় (এই) আখ্যান’ (সুনীল শেঠি, পায়োনিয়ার, অগস্ট ১৪, ১৯৯৪) শুরু করার জন্য অর্থাৎ তাঁর হাতে থাকল জাতপাতের ব্যবসা আর ধর্ষণের ব্যবসা সুন্দর ভাবে বুনে দেওয়ার কৃতিত্ব।

মালা-র বই কিন্তু অন্য কথা বলছে।

ফুলন অবিচারের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ করে দশ বছর বয়সে। তখনও তার বিয়ে হয়নি। বস্তুত, এই কারণেই অত তাড়াতাড়ি তার বিয়ে দেওয়া হয়। যাতে আবার কোন ঝামেলায় সে জড়িয়ে না-পড়ে।

অর্থাৎ প্রতিবাদ করার জন্য তার ধর্ষিত হওয়ার দরকার পড়েনি। আমাদেরও কারও-কারও পড়ে না—

মায়ের কাছ থেকে ফুলন শুনেছিল, কী করে তার বাবার ভাই, বিহারীলাল আর তার ছেলে মাইয়াদিন, জমির দলিল জাল করে তার বাবা আর মা-কে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে ছেড়েছিল এবং গ্রামের বাইরে একটা কুঁড়েতে তাদের থাকতে বাধ্য করেছিল।

সন্ত্রস্ত দিদির সঙ্গে ক্ষিপ্ত বাচ্চা মেয়েটি একদিন কাকার জমিতে গিয়ে দাঁড়ায়, রীতিমতো জঙ্গি মেজাজে ফসল চিবোয়, ফুল ছেঁড়ে (জঙ্গি মেজাজে)। খুড়তুতো ভাই মাইয়াদিন, তখন তার বয়স বছর-কুড়ি, তাদের জমি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হুকুম দেয়। ফুলন নড়ে না। উলটে এই অদ্ভত মেয়েটা তাকে টিটকিরি দেয় ও এ জমিতে তার অধিকারের প্রশ্ন তোলে। ফুলন সত্যিই অন্য রকম ছিল।

এর পর আধলা ইট দিয়ে মেরে তাকে অজ্ঞান করে দেওয়া হয়।

অতএব ফুলনের প্রথম লড়াই, প্রায় অধিকাংশ দস্যু বা ডাকাতের প্রথম লড়াইয়ের মতোই, ছিল জমির অধিকার নিয়ে। ডাকাতির দিকে যাত্রা শুরুর এ একেবারে ধ্রুপদী প্রস্তাবনা।

এর মধ্যে কি ধর্ষণের কোন চিহ্ন আছে?
নাঃ।

জাতপাত নিয়ে হিংসা?
না তো।

তা হলে তা ছবিতে দেখানোর কোন মানে আছে?
একেবারেই না।

মালা-র বই অনুযায়ী, ফুলনের দ্বিতীয় প্রতিবাদও ঐ জমি নিয়ে। আর এর জন্যই (গাঁইয়া বদমাইশদের যৌন নিগ্রহের জন্য নয়, যদিও সে সবও ঘটেছিল) তাকে জেলে যেতে হয়, এবং পুলিশের খাতায় তার নাম ওঠে।

মালা-র বই বলছে মাইয়াদিন ক্ষেপে উঠেছিল, কারণ সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ (গ্রাম-পঞ্চায়েতের কাছে ফুলনের আবেদনের জেরে) এ সময়ে আবার নতুন করে শুরু হয় এবং ইলাহাবাদ হাইকোর্টে স্থানান্তরিত হয়। প্রতিশোধে সে দেবীদিনের ফসল নষ্ট করে। তার পর যখন কুড়ুল নিয়ে সে একটা নিমগাছে কোপ মারছে, সে সময়ে ফুলন গিয়ে সেখানে উপস্থিত হয় ও তার দিকে পাথর ছুঁড়ে মারে। অবিলম্বে সকলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, বেঁধেছেঁদে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

জামিনে ছাড়া পাওয়ার কিছু পরেই একদল ডাকাত তাকে অপহরণ করে। এ-ও, ফুলনের ভাষ্য অনুসারে (এই পযন্ত আর কারও কোন ভাষ্য পাওয়া যায় না), ঐ মাইয়াদিনের কারসাজিতেই ঘটে, যাতে তাকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা যায়।

ছবিতে মাইয়াদিন নামে কোন চরিত্রই নেই।

এর মধ্যেই চমৎকার বড়-বড় সব সিদ্ধান্ত কিন্তু নেওয়া হয়ে গেছে। কী থাকবে, কী বাদ যাবে, কোন্‌ ঘটনা বড় করে দেখানো হবে বা কোন্‌টা হবে না।

জীবন হল ধর্ষণ। বাদবাকি তো খালি অনুপুঙ্খের খেলা।

এর পর ছবিতে ফুলনকে আমরা দেখতে পাই জংলা পাহাড়ি খাতে। যে-ডাকাত দল তাকে অপহরণ করেছিল, তার ঠাকুর-সর্দার বাবু সিং গুজর বারংবার তাকে ধর্ষণ করছে। দ্বিতীয় সর্দার বিক্রম মাল্লা বাবু সিং-এর ব্যবহারে বীতশ্রদ্ধ হয়ে তাকে গুলি করে মারে। বইয়ের বয়ান অনুযায়ী, মাতাল বাবু গুজর যখন ফুলনকে ফের যৌন নিগ্রহের জন্য শাসাচ্ছে, তখনই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ছবিতে, বাবুকে দেখা যায় সক্রিয়, ফুলনের ওপর চড়ে বসেছে, তার নগ্ন পশ্চাদ্দেশ ওঠানামা করছে। তখনই তার মৃত্যু হয়। মৃত লোকটার রক্ত চোখ থেকে মুছে নেয় ফুলন এবং তার পরিত্রাতার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকায়। ঠিক ততটাই অপলক, যতটায়, হে-হে, আসল ব্যাপারটা আমরা বুঝতে পারি।

ধর্ষণ-পরবর্তী এক রোমান্সের দৃশ্যে এর পর আমাদের আপ্যায়ন করা হয়। বহু-ধর্ষিতা এক নারীর যৌন কামনায় প্রথম স্পন্দনের সে এক মর্মস্পর্শী দৃশ্য। ছবিতে সেটা কাজ করে এই ভাবে— তুমি যদি আমায় ছোঁও, তা হলে আমি তোমায় চড় কষাব, কিন্তু আমি, তোমাকে, সত্যিই ছুঁতে চাই।

অনির্দিষ্ট এক নাচের ছন্দে তা বিন্যস্ত হয়, যেখানে তারা পরস্পরের গায়ে গা ঘষে, কিন্তু যখনই বিক্রম ফুলনকে ছোঁয়, সে তার হাত সরিয়ে দেয়, কিন্তু তবুও কামনায় থরথর করে সে কাঁপে। পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে, অথচ যৌনতাকে বরাবর লজ্জা ও গ্লানির সঙ্গে যে এক করে দেখেছে, তেমন এক নারীর দ্বন্দ্বকে দেখানোর এ এমন এক অমার্জিত, প্রকট ও নির্বোধ পদ্ধতি যে ভাবা যায় না। বইতে এ জিনিশ নেই, এই অংশটুকু— ফলে আমি জানি না, শেখর এখানে কার ভাষ্য ব্যবহার করেছেন। দেখে মনে হয়, সম্ভবত ডোনালড ডাক-এর।

বিক্রম মাল্লা ও ফুলন প্রেমে পড়ে। বই এবং ছবি এ বিষয়ে একমত যে, বিক্রমই তার সত্যিকারের প্রেম, যদিও বইয়ে এ কথা বলা নেই যে বিক্রমই তার একমাত্র প্রেম।

ছবি অবশ্য তা-ই বলে। এক পুরুষের নারী হিশেবেই তাকে আঁকতে হবে তো। নইলে, কে আর তাকে করুণা করে? অর্থাৎ এই হল, পবিত্রতার ধর্ম বা ব্যর্থতার। দূর-সম্পর্কের এক খুড়তুতো ভাইকে এ তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। আর একজনকে (মান সিং) দেখানো হয়েছে কলেজ-টলেজের রাখি-ভাই হিশেবে।

যাবতীয় বিবরণ যাচাই করে মনে হয় যে বিক্রম মাল্লাই ফুলনের ডাকাত হিশেবে নবজন্মের কারিগর। পুত্তিলাল, তার স্বামীকে, ফুলনের প্রথম শাস্তিদানের অনুষ্ঠান পরিচালনা করে বিক্রমই। ছবিতে দেখানো হয়েছে তাকে মুখ ঠেসে ধরে, বেঁধে, বন্দুকের কুঁদো দিয়ে ফুলন মারছে, পুরনো আক্রোশ থেকে কাঁদছে, চিৎকার করছে।

যেহেতু ধর্ষিতা, তাই এই শাস্তিদানের অংশে তাকে সামান্য স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া (ক্রমে দেখতে পাব) অন্যত্র তার চিহ্নমাত্র নেই।

কিন্তু এখানেও একটা চতুর বর্জনের ব্যাপার আছে। বইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী এবং ফুলনের নিজের কথাতেও, ঐ দিন নিগৃহীত ছিল দু-জন। একজন নয়।

দ্বিতীয়জন মহিলা। বিদ্যা। পুত্তিলালের দ্বিতীয় স্ত্রী।

পুত্তিলালের কাছে ফুলনের দ্বিতীয় বার যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছবি আমাদের জানায়নি। মাইয়াদিনই তাকে পুত্তিলালের কাছে ফিরে যেতে বাধ্য করে। ফুলন গিয়ে দেখে যে সে আবার একটা বিয়ে করেছে। বিদ্যা সে বার তাকে বিস্তর ভোগায়, অপমান করে, অবশেষে পুত্তিলালকে বাধ্য করে তাকে তাড়িয়ে দিতে।

বিদ্যার হাতে তার অপমান বরং ফুলনের স্মৃতিতে অনেক টাটকা।

ফুলন, তার লিখিত ভাষ্যে, জানিয়েছে যে, সে দু-জনকেই সেদিন খুন করতে চেয়েছিল এবং সেই সঙ্গে চেয়েছিল একটা চিরকুট রেখে আসতে, যেখানে লেখা থাকবে দুটো বিয়ে করলে যে-কোন লোকেরই ভবিতব্য এ-ই হওয়া উচিত। পরে অবশ্য সে মত বদলায় এবং শাস্তির কাহিনী প্রচারের স্বার্থে তাদের প্রাণে না-মারার সিদ্ধান্ত নেয়।

দু-জনকেই সে পেটায়। এবং পুত্তিলালের হাত ও পা ভেঙে দেয়।
কিন্তু এ কাজ কি কোন ভালো মেয়ে করে?
আর-এক মহিলাকে ঠ্যাঙায়?
এ রকম একজনের জন্য আপনি আর কতটা দুঃখবোধ করতে পারেন?
ফলে, ছবিতে বিদ্যাকে দেখানো গেল না।

বিক্রমের সঙ্গে ফুলনের প্রেম শেষ হয় করুণ ভাবে, যখন সে গুলি খেয়ে মরে।

তার হত্যাকারী ঠাকুররা তার পর ফুলনকে ধরে, মুখে কাপড় ঠেসে দেয়, বাঁধে এবং বেহমাইতে চালান করে দেয়। এ ছবির মূল আকর্ষণ হিশেবে বর্ণিত দৃশ্যের মঞ্চ এ বার প্রস্তুত। গণধর্ষণ।

এই দৃশ্যের সূত্রেই আগাগোড়া ছবিটির কথা ভাবা হয়েছে।

আশ্চর্য নয় যে ফুলন নিজে আদতে কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে তেমন কিছু বলেনি। শুধু বলেছে যে ওরা আমাকে নিয়ে বহুত মজা করেছিল।

মারের কথা বলেছে, অপমানের কথা, গ্রাম থেকে গ্রাম হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। আর, একজন মহিলা-ডাকাতের কথাও বলেছে, কুসুম, যে তাকে পছন্দ করত না, তাকে সে টিটকিরি দিয়েছে, এমনকী পীড়ন করেছে। (ছবিতে অবশ্য তার কোন চিহ্ন নেই। কারণ নিগৃহীত মহিলার নৈতিক অঙ্ককে অযথা বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেওয়ার কোন মানে নেই।)

যেহেতু ফুলনকে আমরা হাতের কাছে পাচ্ছি না, তাই এ দৃশ্যের বর্ণনা দেওয়ার জন্য জন ব্র্যাডশ নামে এক মার্কিন সাংবাদিকের এস্কোয়ার পত্রিকায় প্রকাশিত অনুপুঙ্খ (পরোক্ষে উপলব্ধ) বিবরণ উপস্থিত করা যাক।

‘ফুলন চিৎকার করছে, তাকে মারার চেষ্টা করছে, কিন্তু লোকটা ওর চেয়ে ঢের শক্তিশালী। চেপে ধরে, আগন্তুক তাকে ধর্ষণ করে। এক-এক করে সকলে এগিয়ে আসে। লম্বা, নির্বাক ঠাকুরের লোকেরা, যতক্ষণ-না ফুলন জ্ঞান হারায়, পর-পর তাকে ধর্ষণ করতে থাকে। পরের তিন সপ্তাহে প্রতি রাতে বহু বার সে ধর্ষিত হয়, দেওয়ালের দিকে মুখ করে ফুলন নীরবে সব মেনে নেয়. . . সময়ের কোন বোধ থাকে না. . . বাইরে থেকে কেউ তাকে ডাকে। শ্রীরাম কুয়ো থেকে তাকে জল নিয়ে আসতে আদেশ করে। অস্বীকার করলে তার কাপড় ছিঁড়েখুঁড়ে বর্বর ভাবে তাকে লাথানো হয়. . . শেষ পযন্ত সে কুয়োর দিকে খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে এগোয়— লোকগুলো হাসে, গায়ে থুতু ছোঁড়ে। নগ্ন মেয়েটিকে হিঁচড়ে ফের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, আবার শুরু হয় ধর্ষণ।’

শেখর কপুরের আর যা-ই ব্যর্থতা থাক, এ কথা বলা যাবে না যে তিনি চেষ্টা করেননি। তাঁর কাজ তিনি করেছেন। নিজেকে তিনি একটা ঘরে বন্ধ করেছেন. . . একের পর এক লোক ঘরে ঢুকছে, দরজা খুলছে, বন্ধ হচ্ছে. . . নিজেকে তিনি যৌন নিগ্রহের শিকার বলে কল্পনা করেছেন!!! (পায়োনিয়ার, অগস্ট ১৪, ১৯৯৪/ ইন্ডিয়া টুডে, অগস্ট ২১, ১৯৯৪)।

আন্তর্যৌন সহমর্মিতার এই অসাধারণ উপলব্ধির পর তিনি কিছু বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তেও পৌঁছেছেন। ‘গণধর্ষণে কোন যন্ত্রণা নেই, কিছুক্ষণ পর এ ক্ষেত্রে আর কোন শারীরিক যন্ত্রণা থাকে না,’ তিনি আশ্বস্ত করেছেন আমাদের। ‘মানুষ হিশেবে চূড়ান্ত অপমানের মতো বা আত্মার সম্পূর্ণ অবনতির মতো নোংরা ব্যাপার এটা, তার বেশি কিছু নয়।’

ধন্যবাদ, খোকা। এ তো আমি আন্দাজই করতে পারিনি।

বিষয়ের সঙ্গে কোন ফিল্‌্নমেকারের আত্মশ্রেষ্ঠম্মন্যতাকে মেলানো খুব শক্ত। আরও শক্ত যখন ঐ ফিল্‌্নমেকার হয় পুরুষ, আর বিষয় হয় ধর্ষণ।

আর তা যখন উঁচু জাতের পুরুষদের হাতে নিচু জাতের কোন মহিলার গণধর্ষণের মতো কোন ব্যাপার হয়. . . তখন তো সে চেষ্টা করাই উচিত নয়। বরং তা অনুভব করুন।

ফুলনের মুখচ্ছবি বিস্তর দেখা যায় ছবিতে, পোক্ত ক্লোজ-আপে, ধর্ষণ ও পীড়নের সময়ে ত্রাসে ও যন্ত্রণায়, নিয়ন্ত্রিত খিঁচুনিতে। খবরের কাগজ অভাবনীয় ঐকমত্যে জানায় যে ধর্ষণদৃশ্য একেবারে দুর্ধর্ষ ভাবে দেখানো হয়েছে, প্রায় শিউরে ওঠার মতো।

অর্থাৎ সেখানে অপব্যবহারের কোন ব্যাপার নেই।

এখন এর মানে কী? ফুলনের স্তন ও যৌনাঙ্গের অবস্থা না-দেখানোর জন্য কি আমরা শেখর কপুরের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব? অথবা তার নিগ্রহকারীদের অবস্থা? এত কিছু যে তিনি আমাদের কল্পনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, তার জন্য থাকব? এই যে বেশ স্বাদু ধর্ষণ তিনি আমাদের উপহার দিলেন, তার জন্য থাকব কৃতজ্ঞ?

আমার কিন্তু মনে হয় এই দুর্ধর্ষ ছবিটার আসল জায়গা হল তার লাগামহীন নৃশংসতা, পাশবিকতা। তা হলে এখন আর থামা কেন? হঠাৎ এই লজ্জাই বা কীসের?

আমি বলছি, কেন। কারণ, এর সবটাই ধর্ষণের ‘মাত্রা’ বজায় রাখার ব্যাপার। যাতে একটু খালি বেগুনি হয়ে উঠি আমরা, ব্যস্‌, সেই মাপে বানানোর ব্যাপার। রাতের খাওয়াটা বাদ দিতে পারি। কিন্তু কাজেকম্মে বিরতি দিলে কি চলে?

এই হচ্ছি আমরা। আমরা— দর্শকরা, মধ্যবিত্তের দৃষ্টিকামে তৃপ্ত, আমরাই ঠিক করি যে ধর্ষণ/হিংসার ঠিক কতটুকু আমরা নেব, আর হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানাব। আর ঠিক ততটুকুই আমাদের দেওয়া হয়।

এর সঙ্গে গল্পের কোন সম্পর্ক নেই (গল্প বলার তো অজস্র রকমফের আছে)। সত্যের সঙ্গেও এর সম্পর্ক নেই (এ ক্ষেত্রেও নানা রকম গলতা আছে। ঠিক আছে?) যথার্থই সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, তার সঙ্গেও এর কোন সম্পর্ক নেই। আসলে এ সমস্ত বাগাড়ম্বরের সঙ্গে এর কোন যোগাযোগই নেই।

এ সেই আদ্যিকালের আমরা। কতটুকু আমরা দেখতে চাই আমরাই তা ঠিক করি। আর সেই মিশ্রণ যখন যথাযথ হয়, আমরা শিউরে উঠি এবং অনুমোদনের ভঙ্গিতে আরামে ঘড়ঘড় করি।

এ হল শ্রেণীর ব্যাপার। নিয়ন্ত্রণের মাত্রা যদি একটু উঁচু তারে বাঁধা হয় তো লোকে উত্তেজিত হয়ে উঠবে। আর ঐ আসল দৃশ্য দেখার জন্য দল বেঁধে আসবে। আমাদের মতো তাদের ভান করার দরকার নেই। এমনকী, তারা হয়তো জায়গামতো শিস-টিসও দিয়ে ফেলতে পারে।

সে দিক থেকে ঠিকই আছে। এ-ও তো ঐ আমরা।

কিন্তু দাঁড়াও হে, খবর আছে— লোকে ঠিক জেনে গেছে, ঐ তারা দলে-দলে আসছে। এ জিনিশ দেখার জন্য তারা খরচাও করবে। ওতেই টাকা আসবে, ঐ মূল দৃশ্যে। গরম জিনিশ।

অপব্যবহার হল, না হল না— ফিল্মি ধর্ষণের ক্ষেত্রে তার মান ঠিক করা হবে কী ভাবে?

কতটা চামড়া আমরা দেখলাম, এ কি তার ওপর নির্ভর করবে? নাকি তা জটিল কোন ফর্মুলা, যা নগ্ন চামড়া, যৌনাঙ্গ ও উন্মুক্ত স্তনের কম-বেশির ওপর নির্ভর করে?

অপব্যবহারই, আমি বলব, যখন গোটা ব্যাপারটা দাঁড়িয়ে থাকে উচ্চ নৈতিক মানের ওপর, আমাদের জানায় (যেন আমরা জানি না) যে ধর্ষণ হচ্ছে চূড়ান্ত অবমাননার ব্যাপার।

এবং, এ ছবির ক্ষেত্রেও তা-ই, যখন তা অপব্যবহারকেই ব্যবহার করে। ফুলন নিজে বলেছে যে সে মনে করে এ লোকগুলোও— যারা তাকে ধর্ষণ করেছিল, তাদের থেকে আলাদা কিছু নয়। ঐ প্রযোজক আর পরিচালক দু-জন।

এবং এ তারা হাত নোংরা না-করেই করেছে।

আবার কী হল? আত্মার সম্পূর্ণ অবনতি? আত্মাকে অবনত করার জন্য আমার আন্দাজ যে হাতের তেমন কোন দরকার পড়ে না।

ঐ মূল দৃশ্যের পর ছবি দ্রুত উপসংহারের দিকে এগোয়।

ফুলন তার অপহারকদের হাত এড়িয়ে পালায় এবং তার এক তুতো-ভাইয়ের ডেরায় গিয়ে পৌঁছয়। সেখানে সে ক্রমে সামলে ওঠে এবং ঘটনাচক্রে মান সিং-এর সঙ্গে দল বাঁধে, যে পরে তার প্রেমিক হয়ে ওঠে (যদিও ছবিতে তার স্বীকৃতি নেই)।

নতুন দল নিয়ে একটা গ্রামে হানা দেওয়ার দৃশ্যে (এই একবারই তাকে ধর্ষণের সঙ্গে নিঃসম্পর্কিত ডাকাতি করতে দেখা যায়) আমরা দেখি যে সে গ্রামের ভেতর কেমন একটা ঘোরের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার নাকের পাটা ফুলে-ফুলে উঠছে। বাদবাকি লোক তখন লুঠতরাজে ব্যস্ত। পুলিশ দেখেও সে ঘাবড়ায় না। ফিরে যাওয়ার আগে সে একটা কাঁচের বাক্স ভেঙে একজোড়া রুপোর নুপূর তুলে নেয় হাতে, আর একটা বাচ্চা মেয়েকে তা উপহার দেয়।

মিষ্টি।

প্রতিশোধের শেষ পর্বে ফুলন ও তার দল যখন বেহমাইতে পৌঁছয়, একটা বাচ্চা ছাড়া আর সকলেই তখন ঘরের ভেতর গিয়ে সেঁধিয়েছে। কোন কারণে কুয়োর ধারে বাচ্চাটি পড়েই থাকে। দলের সকলে ছড়িয়ে যায় এবং মৃত্যুদণ্ডের জন্য চিহ্নিত ঠাকুরদের ধরে নিয়ে আসে। হঠাৎই ছবি থেকে সব রং মুছে যায়, সব কিছু কেমন ধোঁয়া-ধোঁয়া স্বপ্নদৃশ্যের মতো বিবর্ণ হয়ে আসে। কেমন ধারণার জগতে মিলিয়ে যায়। সেখানে কোন নিষ্ঠুর ক্লোজ-আপ নেই। কোন পাশবিকতা নয়।

একটা মেয়েকে যা করতে হবে, তা তাকে করতেই হবে।

বাইশটি লোককে গুলি করা হয়। বাচ্চাটা রক্তের নদীতে গড়াগড়ি খায়। ফের রং ফিরে আসে।

এ ভাবে, ছবির ভাষ্য অনুযায়ী, ফুলন মোটামুটি তার কাজ শেষ করে। ছবিটিও নিশ্চিত ভাবে ফুলনকে নিয়ে তার কাজ শেষ করে আনে।

কারণ আর কোন ধর্ষণ নেই। আর কোন শাস্তিদানের উপলক্ষ নেই।

বইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বেহমাই হত্যাকাণ্ডের পরই প্রকৃতপক্ষে ফুলন দেবী কিংবদন্তির মাপে বড় হয়ে ওঠে। তার মাথার দাম ধার্য করা হয়, লোকে তার রক্ত নেয়ার জন্য ক্ষেপে ওঠে, ফুলনের দল ভেঙে যায়। তাদের অনেককেই পুলিশ গুলি করে মারে। মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীরা মহা বিব্রত। পুলিশ সন্ত্রস্ত। সাজানো লড়াইয়ে বহু ডাকাতকে খুন করা হয় এবং তাদের মৃতদেহ প্রকাশ্যে দেখানো হয়, যেন মজা। হিংস্র জন্তুর মতো সর্বত্র ফুলনকে তাড়া করা হয়। কিন্তু পরিহাস এই যে, ঠিক তখনই, সেই প্রথম, ফুলনের জীবন সম্পূর্ণ তার নিজের নিয়ন্ত্রণে আসে। সে এক পুরুষদলের নেত্রী হয়ে ওঠে। মান সিং তার প্রেমের শরিক হয়, কিন্তু তা-ও ফুলনের শর্তে। সিদ্ধান্ত যা নেবার, তা ফুলনই নেয়। পুলিশকে বুদ্ধু বানায়। তারা যত ফাঁদ পাতে, সে টপকে যায়। দুঃসাহসিক সব ছোটখাটো খেলা দেখাতে থাকে সে। গোটা উত্তরপ্রদেশের পুলিশবাহিনীর বিশ্বস্ততার মুখে চুনকালি লেপে দেয়।

আর এ সময়েও, ফুলনকে ঠিক কেমন দেখতে, পুলিশ তা-ই জানত না।

এমনকী যখন খ্যাতনামা মালখান সিং আত্মসমর্পণ করে, ফুলন তখনও নিপাত্তা।

গোটা দু-বছর ধরে এ-ই চলে। ভিন্দ-এর এস-পি রাজেন্দ্রপ্রসাদ চতুর্বেদীর মতো নাছোড়বান্দা একটা লোকের সঙ্গে বহু আলোচনার পর শেষ পযন্ত যখন সে আত্মসমর্পণ করবে বলে ঠিকও করে, তখনও মধ্যপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে যাবতীয় শর্ত আগেই ঠিক করে নেয়।

এ সমস্ত ব্যাপারে শেখরের ছবিটির কি কোন আগ্রহ আছে?

এগোন না। জোর অনুমান করুন।

ছবিতে আমরা দেখি, ফুলন আর মান সিং পালাচ্ছে। ক্লান্ত। উপোসী। গুলি-টুলি শেষ। মান সিংকে মনে হয় বেশ বুঝদার, সংশয়ী এবং সমব্যথী।

ফুলন কাঁদছে। মায়ের কাছে যেতে চাইছে!!
এর পরেই আমরা বুঝতে পারি, ঐ আত্মসমর্পণের সময় উপস্থিত।
বন্দুক ফেলে দিয়ে ফুলন মান সিং-এর দিকে তাকায়, সে অনুমোদনের ভঙ্গিতে মাথা নাড়ে।
এই তো ভালো মেয়ে! চালাক মেয়ে!
ভালো চালাক মেয়ে।

পাড়াড়ে-জঙ্গলে ফুলন প্রায় সাড়ে-তিন বছর কাটিয়েছে। বড়সড় ৪৮টি অপরাধের অভিযোগে তাকে খোঁজা হচ্ছিল, তার মধ্যে ২২টি হত্যা, বাদবাকি অপহরণ ও লুঠপাটের কেস। সহজ অঙ্কই বলে দেয় যে ছবিতে গোটা গল্পের মাত্র অর্ধেক আমাদের বলা হয়েছে।

কিন্তু অর্ধসত্যের নতুন সুশান্ত শব্দটি ঢের মহৎ— সত্য।

বৃত্তাকার যুক্তির অন্যান্য সব চিহ্নও ক্রমে দেখা যেতে শুরু করেছে।

যেমন, জীবনই শিল্প।

শিল্প ঠিক বাস্তব নয়।

ছবিটার নাম পালটে ‘ফুলন দেবীর ধর্ষণ ও চূড়ান্ত অবমাননা : সত্যিকারের অর্ধ-সত্য কাহিনী’ রাখলে কেমন হয়?

জলের তলায় একমাত্র ছবির চলচ্চিত্রোৎসবে ছবিটাকে পাঠানো যায় না?

চরিত্রের প্রতি জীবনীকারের দায়িত্ব কতখানি? বিশেষত সেই চরিত্র যদি জীবিত থাকে? কিচ্ছু না?

সে কী ভাবল বা তার জীবনের ওপর এ ছবির কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে— তাতে কি কারও কিছু যায়-আসে?

জনতার ভোগের জন্য এ ছবি মুক্তি পাওয়ার আগে ফুলনকে একবার দেখাতে কি শেখরের কোন বাধ্যতা ছিল না?

দণ্ডনীয় কোন অপরাধ, যেমন হত্যা ও ধর্ষণ— যদি আদালতে বিচার-সাপেক্ষ হয়— তা হলে আইনগত ভাবে কেউ কি কোন মন-গড়া উপাখ্যান, যুক্তিযুক্ত অনুমান বা মুখের কথাকে নির্ভেজাল সত্য বলে পেশ করতে পারে?

শেখর কপুর সেন্সর বোর্ডের কাছে আবেদন করেছেন যেন একটিও শট বাদ না-দিয়ে ছবিটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তিনি বলেছেন যে ছবিটা শিল্পকর্ম হিশেবে অখণ্ড, সেন্সর করা হলে হয়তো সে ছবি আর এ-ক থাকবে না।

তা হলে সেই আদত জীবনের কী হবে, যার থেকে তিনি এই শিল্পরূপ ফেনিয়ে তুলেছেন?

এ ক্ষেত্রে অবশ্যই শেখরের নিয়মনীতি একেবারে আলাদা।

কান-এ প্রথম দেখানোর পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে। বম্বে ও দিল্লিতে মুক্তি পাওয়ার পরও কেটে গেছে কয়েক সপ্তাহ। হাজার-হাজার লোক ইতিমধ্যে এ ছবি দেখে ফেলেছে। সারা বিশ্বের চলচ্চিত্রোৎসবে এ ছবি আমন্ত্রিত হয়েছে।

ফুলন দেবী ছবিটা এখনও দেখেননি। দেখার জন্য তাকে কখনও কেউ আমন্ত্রণও জানায়নি।

গতকাল আমার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল (অগস্ট ২১, ১৯৯৪)। সকালের কাগজে ববি বেদি ফুলনের প্রেস-বিবৃতিকে পুরো নস্যাত করে দিয়েছে। ‘আমার সঙ্গে ফুলন বসুক না, বলুক না ছবিতে কোথায়-কোথায় ভুল আছে। আমি ওর সমস্ত অভিযোগের ঠিকঠাক জবাব দিয়ে বুঝিয়ে দেব।’ (সানডে অবজার্ভার, অগস্ট ২১, ১৯৯৪)। কী বলতে চায় ববি? প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, ফুলনকেই তা ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেবে?

কিন্তু ঘটনা এর চেয়েও সাংঘাতিক। প্রেসের কাছে ববির কথা মানে এক জিনিশ, ফুলনের কাছে তার অর্থ আলাদা। আমার সামনেই ফুলন তাকে ফোন করে জানতে চাইল— ছবিটা সে কখন, কোথায় দেখতে যাবে। ববি তাকে কোন নির্দিষ্ট দিনের কথা বলতে পারেনি।

কী চলছে তা হলে?

ক্ষমতাশালী লোকদের জন্য ছবিটা আলাদা করে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফুলনের জন্য তা করা যাচ্ছে না।

এর জন্য তো কোন চুক্তি হয়নি বাবা, শর্ত ছিল না কোন। ধরে নেওয়া হয়েছিল যে ও তখন নিরাপদে জেলের ভেতরেই থাকবে। ধরে নেওয়া হয়েছিল, ওর কোন গুরুত্ব নেই। ওর কোন মতামত থাকতে পারে, এ কথা তো ভাবা হয়নি।

‘ঠিক এই মুহূর্তে,’ সানডে অবজার্ভার জানাচ্ছে, ‘অসন্তুষ্ট ফুলন দেবীর চেয়ে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড নিয়ে ববি বেদি অনেক বেশি চিন্তিত।’

আইনগত ভাবে, এখন যা দাঁড়িয়েছে, উত্তরপ্রদেশে ফুলনের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ আজও তুলে নেওয়া হয়নি (মুলায়ম সিং যাদব সে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে পালটা আবেদন হাইকোর্টে এখনও ঝুলে আছে)।

বেহমাইতে কী ঘটেছিল, তার অনেক রকম ভাষ্য আছে। সে দিন সে সেখানে উপস্থিত ছিল, এই অভিযোগ ফুলন নিজে অস্বীকার করেছে। তার চেয়েও বড় কথা, সে দিন যাদের গুলি করা হয়েছিল, তার মধ্যে দু-জন, যারা মারা যায়নি, বলেছে যে সে দিন ফুলন সেখানে ছিল না। অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা অবশ্য বলেছে, ফুলন ছিল। কিছুই এখনও প্রমাণিত হয়নি। সব কিছু এখনও অনুমাননির্ভর, প্রমাণসাপেক্ষ।

ছবিটা তাকে না-দেখিয়ে, যখন তার বিলম্বিত প্রতিবাদের আর কোন মূল্য থাকবে না ততক্ষণ তাকে চুপ করিয়ে রেখে (যতক্ষণ না সেন্সরের ছাড়পত্র মেলে, ছবিটা মুক্তি পায়) ওরা ফুলনের কী করল? বাস্তবে মুখ খোলার অবকাশ না-পেয়ে সে কি বেহমাই হত্যাকাণ্ডের চলচ্চিত্রভাষ্যকে মেনে নিল তবে? যেখানে, দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলা হয়েছে যে সে সেখানে উপস্থিত ছিল। অর্থাৎ এর থেকে কি মনে হচ্ছে, নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ সে নিজেই অনুমোদন করছে? সে কি জানে যে এ ছবি সত্যি কথা বলছে কি বলছে না, সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হচ্ছে, কালক্রমে এ ছবিই সত্যে পরিণত হবে? জানে কি, যে ধর্ষণের বলি হিশেবে দেখানোর ফলে জনতার সমবেদনায় হত্যার অপরাধ থেকে সে মুক্তি পাবে না?

হাড়িকাঠে নিজের গলা বাড়িয়ে দেবার জন্য শেখররা কি তাকে সাহায্য করছেন?

একদিকে বেদি ও কপুর নামে দুই সমব্যথী রাখাল আমাদের সঙ্গে ফুলনের চূড়ান্ত অবমাননা ও আত্মার নিগ্রহ ভাগ করে নিতে চাইছেন, আবার অন্য দিকে মনে হয় ফুলন সম্পর্কে তাঁদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। এ ছবি সম্পর্কে সে নিজে কী মনে করল বা তার জীবন ও ভবিষ্যতের পক্ষে এ ছবির প্রতিক্রিয়া কী হবে— এ নিয়ে তাঁরা সম্পূর্ণ উদাসীন।

তাঁদের কাছে ফুলনের অর্থ কী? একটা ধারণা মাত্র? নাকি, স্রেফ একটা জননাঙ্গ?

শেষ আর-একটি ভয়াবহ কাণ্ড। জেলে থাকার সময়ে, জরায়ুতে সিস্ট হওয়ার ফলে প্রচণ্ড রক্তপাতের মধ্যে ফুলনকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ঐ সময়ে তার গর্ভাশয় কেটে বাদ দেওয়া হয়। মালা সেন যখন জানতে চান যে এর কী খুব দরকার ছিল– জেলের ডাক্তার তখন হেসে ওঠেন এবং বলেন, ‘আমরা চাই না যে ও আরও ফুলন পয়দা করুক।’

রাষ্ট্র এক মহিলার জরায়ু কেটে বাদ দিল। তাকে জিজ্ঞেস করল না। তাকে জানাল না পযন্ত?

তার মধ্যে ঢুকল, আর তার একটা প্রত্যঙ্গ ছিঁড়ে নিয়ে এল!

কে পয়দা করবে আর কে করবে না, তা-ও নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত নিল রাষ্ট্র।

এ কথা ছবিতে একবারও উল্লেখ করা হয়েছে?

না। শেষে যখন পর্দায় নাম পড়ছে, তখনও নয়।

সিট-এ পাছা ঠেসে যখন বসার প্রশ্ন আসে, তখন অঙ্গচ্ছেদী অস্ত্রোপচারও কি আর ধর্ষণের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে!

রচনাকাল : অগস্ট-সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪। সন্দীপন ভট্টাচার্যের অনুবাদ। মনফকিরা-প্রকাশিত ‘দুই বিশ্ব’ গ্রন্থে সংকলিত।

(এখানে প্রকাশিত লেখাপত্র শুধুই পড়ার জন্য। দয়া করে এর কোন অংশ কোথাও পুনর্মুদ্রণ করবেন না। ইচ্ছে করলে লিঙ্ক শেয়ার করতে পারেন, কিন্তু অনুরোধ, গোটা লেখাটি কখনওই অন্য কোন ওয়েবসাইটে বা কোন সোশ্যাল নেটওয়রকিং সাইটে শেয়ার করবেন না। ধন্যবাদ।)

Leave a Reply